ময়মনসিংহ: বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো নতুন সক্ষমতা। কালিয়াকৈর-শম্ভুগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং শম্ভুগঞ্জ ৪০০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র সফলভাবে চালু করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) এ অবকাঠামো চালুর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের লো-ভোল্টেজ সমস্যা কমার পাশাপাশি সঞ্চালন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই সঞ্চালন লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র চালুর ফলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোল্টেজ পরিস্থিতির উন্নতি, কমছে লোডশেডিং
ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল এবং নেত্রকোনার একাংশে দীর্ঘদিন ধরে লো-ভোল্টেজ সমস্যা ছিল। নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র চালুর পর এই সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, আগে সংশ্লিষ্ট ১৩২ কেভি নেটওয়ার্কে ভোল্টেজ নেমে আসত ১০২ থেকে ১০৫ কেভিতে। এখন তা বেড়ে ১২০ থেকে ১২১ কেভিতে উন্নীত হয়েছে।
| বিষয় | আগে | এখন |
|---|---|---|
| ১৩২ কেভি নেটওয়ার্কে ভোল্টেজ | ১০২–১০৫ কেভি | ১২০–১২১ কেভি |
গ্রীষ্ম মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। সঞ্চালন সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সিস্টেম লস কমার সম্ভাবনা
সঞ্চালন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ায় এবং নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা কমে আসায় সিস্টেম লস কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, নতুন অবকাঠামোর ফলে বছরে প্রায় ১.৫ থেকে ২ শতাংশ সিস্টেম লস কমতে পারে।
শিল্পায়নে নতুন সুযোগ
বিদ্যুৎ সরবরাহের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্পকারখানা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, তৈরি পোশাকশিল্প ও রাইস মিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলতা
নতুন ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা এবং পরিচালনগত নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এ অবকাঠামো দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এর মাধ্যমে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চালুর ফলে যেসব সুবিধা মিলবে
- ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল ও নেত্রকোনার একাংশে লো-ভোল্টেজ সমস্যা হ্রাস
- ১৩২ কেভি নেটওয়ার্কে ভোল্টেজ ১২০–১২১ কেভিতে উন্নীত
- গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি
- বছরে ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস কমার সম্ভাবনা
- শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ
- জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি
প্রশ্নোত্তরে বিষয়টি
শম্ভুগঞ্জ ৪০০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র কবে চালু হয়েছে?
৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার কালিয়াকৈর-শম্ভুগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন ও শম্ভুগঞ্জ ৪০০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র সফলভাবে চালু করা হয়েছে।
কোন প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে?
পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মিত হয়েছে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।
কোন কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে?
ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল এবং নেত্রকোনার একাংশে লো-ভোল্টেজ সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ এর সুফল পাবেন।
সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়









