নানা আয়োজনে ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস ২০২৩ অনুষ্ঠিত

১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্ত হয়েছিল ময়মনসিংহ এবং ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস ২০২৩ উপলক্ষে আজ ১০ ডিসেম্বর বিজয় র‍্যালী, পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর

আজকের এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জুড়ে দিনব্যাপী বিবিধ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ময়মনসিংহের আয়োজনে পতাকা উত্তোলন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনতার ‘বিজয় র‍্যালী’র আয়োজন করা হয়। ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস ২০২৩ এর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব উম্মে সালমা তানজিয়া, সম্মানিত বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ, জনাব মাছুম আহাম্মদ ভূঞা পিপিএম, পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ, জনাব এহতেশামুল আলম, সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ, জনাব এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ, ময়মনসিংহ, জনাব ইউসুফ খান পাঠান, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ মহোদয়সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতির সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।

ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস ২০২৩
মুক্তিযোদ্ধা স্মরণী ছোট বাজারে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করছেন

আরও পড়ুন >> ময়মনসিংহে সংবিধান দিবস ২০২৩ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন ময়মনসিংহ জেলাকে। সেই স্মৃতি আজও অম্লান ইতিহাসের পাতায়। দেশ স্বাধীন করার দৃঢ় প্রত্যয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ১১ নম্বর সেক্টরের এফজে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থানরত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর সম্মিলিত যুদ্ধের পরিকল্পনা করে। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐ দিনই ক্যাপ্টেন বালজিৎ সিংয়ের অধীনে মুক্তিবাহিনীর বেশ কয়েকটি কোম্পানি জেলার সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর একের পর এক আক্রমণের পাশাপাশি আকাশপথে যুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করে।
৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পর্যায়ক্রমে ফুলপুর, তারাকান্দা, শম্ভুগঞ্জ ও ময়মনসিংহ শহর ছেড়ে টাঙ্গাইল জেলার ভেতর দিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যেতে শুরু করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১০ ডিসেম্বর ভোর রাতের মধ্যে তাদের সর্বস্ব নিয়ে ময়মনসিংহ শহর থেকে পালিয়ে যায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিকামী শহরবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। সর্বস্তরের জনতা মুক্তির আনন্দ মিছিল নিয়ে একযোগে স্থানীয় সার্কিট হাউজ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সেখানেই ওড়ানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় লাল-সবুজ পতাকা।

শেয়ার করুন :
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *